শেখ হাসিনার পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার গঠন: ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রধান উপদেষ্টা
শেখ হাসিনার সরকার দ্রুত পতনের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র নেতারা আগেই নতুন সরকারের প্রস্তুতি শুরু করেছিলেন। অগাস্টের শুরু থেকেই তারা নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন, কারণ সম্ভাব্য পরিস্থিতিতে তিনি সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিতে পারেন।
৫ আগস্ট দুপুরে গণমাধ্যমে খবর আসে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত পলায়ন করেছেন। একই দিনে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ঘোষণা করেন, একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হবে।
সেনা সদর দফতরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক এবং ছাত্র নেতাদের উপস্থিতিতে আলোচনা হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র নেতারা নিশ্চিত হন যে, জাতীয় সরকারের বিষয়ে বিএনপির আগ্রহ নেই। এরপর তারা জনগণের মাধ্যমে সরকারের প্রস্তাবনা আনা ও উপদেষ্টা চূড়ান্ত করার উদ্যোগ নেন।
ছাত্র নেতারা ৫ আগস্ট টেলিভিশন চ্যানেলের মাধ্যমে ড. ইউনূসকে যোগাযোগ করেন। দীর্ঘ আলোচনা শেষে ড. ইউনূস সম্মতি দেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার জন্য। রাতেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার নাম ঘোষণা করা হয়।
৬-৭ আগস্ট রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন, তিন বাহিনী প্রধান, ছাত্র নেতা ও শিক্ষাবিদদের সঙ্গে বৈঠক করে নতুন সরকারের রূপরেখা চূড়ান্ত করেন। ছাত্র ও নাগরিক সমন্বয়কারীরা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে তালিকা আলোচনা করে ১৫ সদস্যের প্রাথমিক উপদেষ্টা তালিকা তৈরি করেন।
৮ আগস্ট দুপুরে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ফ্রান্স থেকে দেশে এসে বঙ্গবন্ধু ভবনে শপথ গ্রহণ করেন। তার সঙ্গে ১৬ জন উপদেষ্টা তালিকাভুক্ত ছিলেন, শপথ গ্রহণ করেন প্রথমে ১৩ জন, বাকিদের পরবর্তীতে। উপদেষ্টা তালিকায় ছাত্র আন্দোলনের দুইজন সমন্বয়কও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
ড. ইউনূস সরকার গ্রহণের সময় বলেন, “ছাত্ররা তাদের প্রাথমিক নিয়োগকর্তা; তারা যখন বলবে, তখন উপদেষ্টারা চলে যাবেন।”
শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনদিন ধরে সরকার বিহীন থাকার পর অন্তর্বর্তী সরকার কার্যক্রম শুরু করে। পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টও সংবিধান অনুসারে এই সরকারের বৈধতা নিশ্চিত করে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন বৈধ: সুপ্রিম কোর্ট
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ লিভ টু আপিল খারিজ করে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন বৈধ ঘোষণা করেছিলো। প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন সাত বিচারপতির বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুসারে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের মতামত চেয়ে রেফারেন্স পাঠান। আপিল বিভাগের সুপারিশে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয় এবং উপদেষ্টারা শপথ নেন।
হাইকোর্টে দায়ের করা রিট এবং এর লিভ টু আপিল খারিজ করা হয়। আদালত উল্লেখ করে, এক ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের উপদেশ গ্রহণ করেছেন, যা আইনি এবং জনগণের স্বার্থের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।
সারসংক্ষেপে, রাষ্ট্রপতির রেফারেন্স এবং সুপ্রিম কোর্টের মতামতের ভিত্তিতে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন ও শপথ আইনগতভাবে বৈধ।
সূত্রঃ বিবিসিবাংলা, বাসস ও আপিল বিভাগ